সাকিবকে নিয়ে যে ঘোষণা দিলো: আইসিসি

খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও শেষটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলের। সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল আগেই। তবু পাক বধ করে টুর্নামেন্টের ৫ম স্থানটি দখল করতে আজ লর্ডসে নেমেছিল টাইগাররা। কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদির বোলিং তাণ্ডবে পাকিস্তানের বিপক্ষে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ৯৮ রানে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয় মাশরাফি বাহিনীর।

তবে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরিতে পড়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপের আগে ঠিকই ফিট হয়ে ওঠেন এবং ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেট বিশ্বকে মাতিয়ে রাখেন।

গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে কতটা অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন সেটি বোঝার জন্য পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ৮ ম্যাচে ৮৬.৫৭ গড়ে ৯৬.০৩ স্ট্রাইক রেটে ২ সেঞ্চুরি এবং ৫টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৬০৬ রান তার ব্যাট থেকে এসেছে। যে তিনটি ম্যাচ বাংলাদেশ জিতেছে, তার সবকটিতেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে সুপার-৭৫’র হাতে। সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশ বিদায় না নিলে তার রান সংখ্যা আরও উপরের দিকেই থাকতো, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে একই সঙ্গে হাফসেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট শিকারে ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের পর আরেক বাঁ হাতি অলরাউন্ডার হিসেবে এবার ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন টাইগার সাকিব। মোট ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট।

সাকিবের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) চোখ মোটেও এড়িয়ে যায়নি। নিজস্ব ওয়েবসাইটে আইসিসি মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের বিচার-বিশ্লেষণ করে তাদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করে। আর তাতে সাকিবকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তা জানামাত্র একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্বের সীমা থাকার কথা নয়।

আইসিসি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে- গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই সাকিব আল হাসান। এই বিশ্বকাপ প্রকৃত অর্থেই সাকিবের বিশ্বকাপ। ঈর্ষণীয় ধারাবাহিকতার পরিচয় দিয়ে ৮ ম্যাচের ৭টিতে তিনি পঞ্চাশের উপর রান করেছেন। তার সর্বনিম্ন স্কোর ৪১। বল হাতেও কম সফল নন, ৮ ম্যাচে পেয়েছেন ১১টা উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সব উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার।

১০ দলের মধ্যে অষ্টম স্থানে থেকে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করায় বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা হতাশ। অন্তত সেমিফাইনালে যেতে না পারায় সাকিবের টুর্নামেন্ট সেরা না হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বলে অনেকেই ধরে নিয়ে মন খারাপ করে আছেন। তবে আইসিসির করা মন্তব্যের ফলে সমর্থকরা নতুন করে আশা দেখতেই পারেন। আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে- বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব নিঃসন্দেহে ২০১৯ বিশ্বকাপের প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট খেতাবের অন্যতম দাবিদার।

বিশ্বকাপ চলাকালীন ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের দৌড়ে পরস্পরকে বারবার টপকে যাচ্ছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন রোহিত শর্মাও। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব বিশ্বকাপে এক হাজার রানও পূর্ণ করেছেন। পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান মার্ক ওয়াহ, সৌরভ গাঙ্গুলী এমনকি স্যার ভিভ রিচার্ডসকেও।